২৬ জানুয়ারি ২০২৬—ভারতীয় নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এই তারিখটি চিরদিনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভাদোদরার কোটাম্বি বিসিএ স্টেডিয়ামে উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগ (WPL)-এর ম্যাচে সেই দিন যা ঘটল, তা শুধুমাত্র একটি দলীয় জয় নয়—বরং এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। ন্যাট সিভার-ব্রান্টের ব্যাটে এল WPL ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরি। টুর্নামেন্টের চতুর্থ মরসুমে এসে, দীর্ঘ ১০৫৯ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিন অঙ্কের সেই জাদুকরী সংখ্যা ছুঁলেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার।
আর এই ঐতিহাসিক ইনিংস এল এমন এক সময়ে, যখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কার্যত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে। টানা চার হারের পর এই ম্যাচ ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কাছে নিঃসন্দেহে ‘ডু-অর-ডাই’।

খাদের কিনারা থেকে রূপকথার প্রত্যাবর্তন
টানা চার ম্যাচে হারের মুখ দেখে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স যখন কার্যত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায়, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল মুম্বাই। কিন্তু তিন নম্বরে নেমে ন্যাট যা করলেন, তা এক কথায় ‘মাস্টারক্লাস’।
মাত্র ৫৭ বলে অপরাজিত ১০০* রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। ১৬টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি ছিল পরিস্থিতি বুঝে খেলার নিখুঁত উদাহরণ। ইনিংসের শুরুতে সময় নিয়ে থিতু হওয়া এবং ২৫-৩০ রানের পর আরসিবি বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া—ন্যাটের এই রণকৌশলই মুম্বাইকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

ম্যাথিউজ-ন্যাট জুটিতে রানের পাহাড়
ন্যাট একা নন, তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন হেইলি ম্যাথিউজ। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের ১৩১ রানের জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাথিউজ ৩৯ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ভাদোদরার মাঠের ‘শর্ট সাইড’ বাউন্ডারিকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা শেষ ১০ ওভারে পরিকল্পিত আক্রমণ চালান। ফলে প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৬৯ রান তোলা মুম্বাই ২০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে তোলে ১৯৯/৪।

পাওয়ারপ্লেতেই শেষ আরসিবির স্বপ্ন
২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে আরসিবির ব্যাটিং লাইনআপ। শাবনিম ইসমাইল শুরুতেই বিপজ্জনক গ্রেস হ্যারিসকে ফিরিয়ে ধাক্কা দেন। এরপর বল হাতে ভেলকি দেখান হেইলি ম্যাথিউজ। মাত্র ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি আরসিবির টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। পাওয়ারপ্লেতে আরসিবির স্কোর ছিল ৩৫/৫, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়।
| দল | পাওয়ারপ্লে স্কোর |
|---|---|
| মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স | ৩৮/১ |
| রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু | ৩৫/৫ |
রিচা ঘোষের একলা লড়াই
দল যখন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে, তখন ব্যাট হাতে একাই লড়াই চালিয়ে যান রিচা ঘোষ। ৬ নম্বরে নেমে ৫০ বলে ৯০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি। এটি WPL-এর ইতিহাসে ৬ নম্বর বা তার নিচে নামা কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের সঙ্গে নবম উইকেটে গড়ে তোলেন ৫৫ রানের জুটি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্রুততম (১৮.৩৩ রান রেট)। শেষ ওভারে লড়াই জমালেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় ১৮৪ রানেই থামতে হয় আরসিবিকে।
একনজরে ম্যাচের সেরা মুহূর্ত ও পরিসংখ্যান
- টার্নিং পয়েন্ট: ন্যাট ও ম্যাথিউজের ১৩১ রানের পার্টনারশিপ।
- ম্যাচের ফলাফল: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৫ রানে জয়ী।
- ম্যাচের সেরা: ন্যাট সিভার-ব্রান্ট (১০০* রান)।
- ঐতিহাসিক রেকর্ড: WPL-এর ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| বিভাগ | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ সেরা | ন্যাট সিভার-ব্রান্ট |
| মুম্বাইয়ের রান | ১৯৯/৪ |
| আরসিবির রান | ১৮৪/৯ |
| ফলাফল | মুম্বাই ১৫ রানে জয়ী |
| ঐতিহাসিক মাইলফলক | WPL-এর প্রথম সেঞ্চুরি |
এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে বড়সড় রদবদল হলো। টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স উঠে এল পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। সিনিয়র তারকাদের ফর্মে ফেরা দলটিকে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার করে তুলল। অন্যদিকে, আরসিবির জন্য নকআউটের পথ কিছুটা কঠিন হলো, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।











