মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভূগোল বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়ার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো ম্যাপ পয়েন্টিং (Madhyamik Map Pointing Suggestion)। এখানে কোনো অথবা (OR) থাকে না, তাই ১০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলে ১০ নম্বর নিশ্চিত। আজকের আর্টিকেলে আমরা ঠাকুরনগরের বিশিষ্ট শিক্ষক বাবুমনি দে স্যারের (সম্রাট এক্সক্লুসিভ) বিশেষ সাজেশন এবং ম্যাপ পয়েন্টিং করার সঠিক নিয়মগুলো জেনে নেব।
ম্যাপ পয়েন্টিং করার সঠিক নিয়ম
ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় সব ঠিক করেও নম্বর কম পায় কিছু ভুলের জন্য। তাই এই নিয়মগুলো মাথায় রাখা জরুরি:
- পেন্সিলের ব্যবহার: ম্যাপ পয়েন্টিং সবসময় পেন্সিল দিয়ে করতে হবে।
- সঠিক লেবেলিং: ম্যাপের ওপর নির্দিষ্ট চিহ্নের পাশে পূর্ণ দাগ নম্বর এবং ওই কেন্দ্রটির নাম (যেমন: ৫.১ ভারতের রাজধানী- দিল্লি) অবশ্যই লিখতে হবে।
- চিহ্ন বা সিম্বল: পর্বত, নদী বা বন্দরের জন্য আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট চিহ্ন ব্যবহার করা ভালো।
ম্যাপ পয়েন্টিং সাজেশন ২০২৬ (অধ্যায় ভিত্তিক) | Madhyamik Geography Map pointing Suggestion 2026
বিশিষ্ট শিক্ষক বাবুমনি দে স্যারের মতে, এই পয়েন্টগুলো এ বছরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
পর্বত ও মালভূমি
১. ছোটনাগপুর মালভূমি ২. দাক্ষিণাত্য মালভূমি ৩. আরাবল্লী পর্বত ৪. নীলগিরি পর্বত ৫. বিন্ধ পর্বত ৬. কারাকোরাম পর্বত ৭. পশ্চিমঘাট পর্বত (এখানে গ্যাপ বা ফাঁকগুলো অবশ্যই দেখাবে)
নদ-নদী ও হ্রদ
- হ্রদ: চিলকা হ্রদ (উড়িষ্যা), সম্বর হ্রদ (রাজস্থান), লোকটাক হ্রদ (মণিপুর)।
- নদী: কৃষ্ণা, নর্মদা (খাম্বাত উপসাগরে পতিত), কাবেরী, গোদাবরী, তাপ্তি (পশ্চিম বাহিনী নদী) এবং লুনি (ভারতের একমাত্র অন্তর্বাহিনী নদী)।
জলবায়ু ও মৃত্তিকা
- জলবায়ু: ভারতের শুষ্কতম অঞ্চল (রাজস্থানের জয়সলমির), দু-বার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল (করমন্ডল উপকূল), বৃষ্টির ছায়া অঞ্চল (পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল)।
- মৃত্তিকা: কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চল (দাক্ষিণাত্য), লোহিত মৃত্তিকা (অরুণাচল ও পার্শ্ববর্তী), পূর্ব ভারতের লবণাক্ত মৃত্তিকা (সুন্দরবন থেকে বিশাখাপত্তনম), এবং পলি মৃত্তিকা অঞ্চল (গাঙ্গেয় সমভূমি)।
কৃষি ও গবেষণা কেন্দ্র
- ফসল: মিলেট উৎপাদক অঞ্চল (গুজরাট/মহারাষ্ট্র), উত্তর ভারতের গম বলয় (পাঞ্জাব, হরিয়ানা), কফি উৎপাদক অঞ্চল (নীলগিরি)।
- গবেষণা কেন্দ্র: কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (দিল্লির পুসা), কফি গবেষণা কেন্দ্র (চিকমাগালুর), মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র (দেরাদুন), মরুভূমি গবেষণা কেন্দ্র (যোধপুর), অরণ্য গবেষণা কেন্দ্র (দেরাদুন/জব্বলপুর)।
শিল্প ও শহর
- শিল্প: ভারতের রুঢ় (দুর্গাপুর), ভারতের ম্যানচেস্টার (আমেদাবাদ), দক্ষিণ ভারতের ম্যানচেস্টার (কোয়েম্বাটুর), উত্তর ভারতের ম্যানচেস্টার (কানপুর), বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র (বেঙ্গালুরু)।
- বন্দর: শুল্কমুক্ত বন্দর (কাণ্ডালা), আরব সাগরের রানী (কোচি), গভীরতম বন্দর (পারাদ্বীপ), পূর্ব উপকূলের কৃত্রিম প্রোতাশ্রয় (চেন্নাই), স্বাভাবিক বন্দর (বিশাখাপত্তনম)।
- শহর: ভারতের রাজধানী (দিল্লি), ভারতের প্রবেশদ্বার (মুম্বাই), সিটি অফ জয় (কলকাতা), সবুজ নগরী (চেন্নাই), হ্রদের শহর (হায়দ্রাবাদ)।
ম্যাপ পয়েন্টিং-এ দক্ষ হতে গেলে অভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। তোমরা স্কুল থেকে দেওয়া পর্ষদের টেস্ট পেপারের পেছনের দিকের সমাধানগুলো দেখতে পারো। উপরের পয়েন্টগুলো অন্তত ১০টি ব্ল্যাঙ্ক ম্যাপে বারবার প্র্যাকটিস করো। আশা করি, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় তোমরা ম্যাপ পয়েন্টটিং-এ পূর্ণ নম্বর পাবে।
বি.দ্র: পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই আর্টিকেলটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো এবং আরও সাজেশনের জন্য আমাদের ব্লগের সাথে যুক্ত থাকো।











