Hybrid ATM: বাস-অটো থেকে মুদির দোকান—খুচরোই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাসে উঠলেই শুরু ঝামেলা, অটোচালকের সঙ্গে বচসা, মুদির দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতার বাদানুবাদ—সব কিছুর মূলে একটাই সমস্যা, খুচরো টাকার চরম সংকট। ১০ ও ২০ টাকার নোট যেন বাজার থেকে কার্যত উধাও। কোথাও বা পাওয়া যাচ্ছে ছেঁড়া-ফাটা নোট, যেগুলি লেনদেনের অযোগ্য। এটিএম থেকে মূলত মিলছে ৫০০ টাকার নোট—ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠছে আরও জটিল।
এই বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরে শুরু হয়েছে এক নতুন ভাবনা—‘হাইব্রিড এটিএম’। এই বিশেষ এটিএম থেকে শুধু টাকা তোলা নয়, মিলবে বড় নোট ভাঙিয়ে খুচরো। নোট বাতিলের প্রায় এক দশক পর, নগদ লেনদেনের সমস্যার সমাধানে এটিই হতে চলেছে সরকারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

খুচরো সংকট কেন এত তীব্র?
গত কয়েক বছরে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার হলেও, বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। শহর হোক বা গ্রাম—ছোটখাটো লেনদেনে নগদের বিকল্প এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুচরো সংকটের প্রধান কারণগুলি হল—
- এটিএম থেকে মূলত ৫০০ টাকার নোট বেরোনো
- ছোট অঙ্কের নোটের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা
- ছেঁড়া নোট দ্রুত প্রত্যাহার হলেও নতুন নোট পর্যাপ্ত হারে বাজারে না আসা
- গ্রামাঞ্চলে UPI ও ডিজিটাল পেমেন্টের সীমাবদ্ধতা
ফলে বাসভাড়া, চা-দোকান, সবজি বাজার—সব জায়গাতেই খুচরো নিয়ে নিত্যদিনের অশান্তি।
কী এই ‘হাইব্রিড এটিএম’? কীভাবে কাজ করবে?
সরকারের পরিকল্পিত হাইব্রিড এটিএম মূলত একটি নোট ভাঙানোর মেশিন হিসেবেও কাজ করবে।
সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য
- ৫০০ বা ১০০ টাকার নোট ঢুকিয়ে
- চাহিদামতো ১০, ২০ বা ৫০ টাকার নোট বা কয়েন পাওয়া যাবে
- সাধারণ এটিএমের মতোই ২৪×৭ পরিষেবা
- নগদ তোলা ও খুচরো—দুটো সুবিধাই একসঙ্গে
সূত্রের খবর, এই এটিএমগুলি জনবহুল এলাকায় বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই পরিষেবা পান।

কোথায় বসবে হাইব্রিড এটিএম?
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে হাইব্রিড এটিএম বসানোর জন্য যে জায়গাগুলি বাছা হচ্ছে—
- বাসস্ট্যান্ড ও অটো স্ট্যান্ড
- বাজার এলাকা ও শপিং জোন
- সরকারি অফিস
- হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র
এই জায়গাগুলিতেই খুচরোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং ঝামেলাও সবচেয়ে তীব্র।
পাইলট প্রোজেক্ট কোথায়? কবে চালু হবে দেশজুড়ে?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, মুম্বইতে ইতিমধ্যেই একটি পাইলট প্রোজেক্ট পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। সেখানে সীমিত পরিসরে খুচরো দেওয়ার এই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে
- প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন মিললেই
- সারা দেশে ধাপে ধাপে হাইব্রিড এটিএম চালু করা হবে
একই সঙ্গে, বাজারে খুচরোর চাহিদা মেটাতে Reserve Bank of India-কে আরও বেশি ছোট অঙ্কের নোট ছাপানোর জন্য অনুরোধ করতে পারে কেন্দ্র।
ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়লেও নগদ কেন এখনও জরুরি?
ভারতে UPI ও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হল—
- গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেকের স্মার্টফোন নেই
- নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকায় UPI সব সময় কাজ করে না
- ছোট লেনদেনে অনেক দোকানদার এখনও নগদই পছন্দ করেন
ফলে খুচরো ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল।
[Image: গ্রামীণ বাজারে নগদ লেনদেনের দৃশ্য]
বিশেষজ্ঞদের মত: আশার আলো না নতুন চাপ?
এই উদ্যোগ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতামত একেবারে একরকম নয়।
🗣️ দেবেন্দ্র পন্থ (Chief Economist, India Ratings)
“প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও নগদ লেনদেন অপরিহার্য। সেখানে নগদ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।”
🗣️ এক ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞের মত
“শুধু হাইব্রিড এটিএম আনলেই সমস্যা মিটবে না।
ছোট নোট ছাপানো, বিতরণ ও পুনঃব্যবহার—সব একসঙ্গে করতে হবে।”
🗣️ বিবেক আইয়ার (Banking Analyst)
“নির্বাচিত এলাকাতেই হাইব্রিড এটিএম বসানো উচিত।
নাহলে ব্যাঙ্কগুলির উপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে।”
খুচরো বনাম ডিজিটাল—ভারসাম্যের পথে সরকার
হাইব্রিড এটিএম চালুর পরিকল্পনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সরকার বুঝতে পারছে—ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পাশাপাশি নগদ বাস্তবতাও অস্বীকার করা যায় না। খুচরো সংকট মেটাতে এই উদ্যোগ সফল হলে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই স্বস্তির হবে।









