বিজনেস ডেস্ক: ২০২৫ সাল জুড়ে সোনা ও রুপোর দামে যে লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেখা গিয়েছিল, ২০২৬-এর শুরুতে এসে তা বড়সড় ধাক্কা খেল। বাজেটের ঠিক পরেই দেশের কমোডিটি বাজারে (MCX) এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এটা কি সাময়িক সংশোধন, নাকি বড় কোনো ধসের ইঙ্গিত?
MCX-এ সোনা ও রুপোর বর্তমান হাল
বাজেটের পরদিন থেকেই মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) বিক্রির চাপ বাড়তেই একধাক্কায় কমেছে মূল্যবান ধাতুর দাম।
- রুপোর দাম: একদিনেই প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি কেজিতে দাম নেমে এসেছে ২,৫৫,৬৫২ টাকায়। রেকর্ড উচ্চতা (৪,২০,০০০ টাকা) থেকে এটি প্রায় ৩৯% নিচে।
- সোনার দাম: ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪০,০০০ টাকায়।
কেন হঠাৎ এই পতন? প্রধান ৩টি কারণ
বিশেষজ্ঞরা এই পতনের পেছনে মূলত তিনটি আন্তর্জাতিক কারণকে দায়ী করছেন:
১. শক্তিশালী ডলার ও কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে (Kevin Warsh) মনোনীত করেছেন। এর ফলে মার্কিন আর্থিক নীতিতে কড়াকড়ির সম্ভাবনা বেড়েছে এবং সুদের হার উঁচুতে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং সোনা-রুপোর মতো ধাতুর আকর্ষণ কমেছে।
২. CME-এর মার্জিন বৃদ্ধি: শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (CME) গোল্ড ফিউচারের মার্জিন ৬% থেকে বাড়িয়ে ৮% এবং সিলভার ফিউচারের মার্জিন ১১% থেকে বাড়িয়ে ১৬% করেছে। মার্জিন বাড়ার ফলে ট্রেডারদের বেশি মূলধন আটকে রাখতে হচ্ছে, যার ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বা সেলিং প্রেসার তৈরি হয়েছে।
৩. প্রফিট বুকিং: ২০২৫ সালে নজিরবিহীন উত্থানের পর বাজার কিছুটা ‘কারেকশন’ বা সংশোধনের পথে হাঁটছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন মুনাফা তুলে নিতে চাইছেন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন এখনই কোনো বড় ধসের ইঙ্গিত নয়। এটি দীর্ঘদিনের রেকর্ড উত্থানের পর একটি স্বাভাবিক বাজার সংশোধন (Correction)। তাই আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বিক্রি না করে ধৈর্য ধরা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি পুনরায় বাজারে প্রবেশের সুযোগ হতে পারে, তবে ডলার ইনডেক্সের দিকে নজর রাখা জরুরি।











