Air India Record Loss 2026: আমেদাবাদ দুর্ঘটনার জের! ২০২৬-এ ১৪,৫০০ কোটির রেকর্ড লোকসানের মুখে এয়ার ইন্ডিয়া

আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ধাক্কায় ২০২৬ অর্থবর্ষে ১৪,৫০০ কোটির রেকর্ড লোকসানের আশঙ্কায় এয়ার ইন্ডিয়া। কীভাবে এই সংকট কাটিয়ে উঠবে সংস্থা।
Photo of author
SRINews

Published On:

আমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কালো ছায়া যেন সরছে না এয়ার ইন্ডিয়ার ওপর থেকে। ভারতের এই জাতীয় বিমান সংস্থা তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৬ অর্থবর্ষে সংস্থাটির লোকসান পৌঁছাতে পারে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১৪,৫০০ কোটি টাকায়। অপারেশনাল সমস্যা, যাত্রীদের আস্থার অভাব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে এক গভীর অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী এয়ারলাইন।

দুর্ঘটনার ধাক্কায় টালমাটাল হিসাবনিকাশ

গত বছর আমেদাবাদে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাটি শুধুমাত্র প্রাণহানির ট্র্যাজেডি ছিল না, এটি এয়ার ইন্ডিয়ার আর্থিক মেরুদণ্ডেও বড় আঘাত হেনেছে। দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরেই ডিজিসিএ (DGCA) ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি বিমান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে বহু রুটে ফ্লাইট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সংস্থাটি। এই অপারেশনাল স্থবিরতাই রেকর্ড লোকসানের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন ১৪,৫০০ কোটির লোকসান?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি কোনো একটি কারণে হয়নি। বরং দুর্ঘটনার পরবর্তী একাধিক সমস্যার সম্মিলিত ফল এটি। লোকসানের প্রধান কারণগুলি হলো:

  • বিমান বহর স্থগিত ও ফ্লাইট বাতিল: দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা অডিটের কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বড় অংশের বিমান ‘গ্রাউন্ডেড’ বা বসিয়ে রাখা হয়। কম বিমানে ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরাসরি আয়ে বড় ধস নামে।
  • নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ: নতুন করে সেফটি অডিট এবং আকাশপথের সীমাবদ্ধতার কারণে রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। ফলে নতুন বাজার ধরার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
  • যাত্রী আস্থায় চিড়: দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে অগ্রিম বুকিংয়ের হার কমেছে, যা এয়ারলাইনের ক্যাশ ফ্লো-তে প্রভাব ফেলেছে।

ঘুরে দাঁড়ানোর ব্লু-প্রিন্ট: ম্যানেজমেন্টের কৌশল

এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এয়ার ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট একটি ‘টার্নঅ্যারাউন্ড স্ট্র্যাটেজি’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তাদের মূল ফোকাস এখন তিনটি স্তম্ভের ওপর:

১. ফ্লিট অপ্টিমাইজেশন: কোন রুটে কতগুলি বিমান চালানো লাভজনক হবে, তার বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ২. খরচ নিয়ন্ত্রণ: অপ্রয়োজনীয় অপারেশনাল ব্যয় কমিয়ে লাভের মার্জিন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ৩. সেবার মান বৃদ্ধি: সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রী পরিষেবার মান বাড়িয়ে হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

বিনিয়োগকারীদের নজর এখন কোন দিকে?

আগামী কয়েক মাস এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা বিশেষ নজর রাখছেন ‘লোড ফ্যাক্টর’ (কত শতাংশ সিট ভর্তি হচ্ছে) এবং ‘ইয়েল্ড’ (যাত্রী প্রতি গড় আয়)-এর দিকে। এই সূচকগুলিই বলে দেবে, আগামী অর্থবর্ষে এয়ার ইন্ডিয়া আদৌ লাভের মুখ দেখবে কি না।

১৪,৫০০ কোটির এই সম্ভাব্য লোকসান প্রমাণ করে যে, এভিয়েশন সেক্টরে একটি দুর্ঘটনা কীভাবে গোটা ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে সব শেষ হয়ে যায়নি। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সঠিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিয়া যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবে তা হবে গোটা বিমান শিল্পের জন্যই এক বড় শিক্ষা।

Leave a Comment