Sensex Nifty: বাজেট পেশের দিন যে প্রবল অস্থিরতা আমরা দেখেছিলাম, সোমবারের বাজার তার সম্পূর্ণ বিপরীত এক পরিপক্ব চিত্র তুলে ধরল। বাজেট দিবসে প্রায় ২ শতাংশ বা ১৫০০ পয়েন্টের বেশি পতনের পর, দালাল স্ট্রিট এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের বা ‘রিবাউন্ড’-এর সাক্ষী থাকল। সোমবার বাজার খুলতেই বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) ৩০২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৮১,০২৪.৯৪ স্তরে এবং এনএসই নিফটি (NSE Nifty) ৫৯.২৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৮৮৪.৭০ পয়েন্ট স্পর্শ করে।
এই ঘুরে দাঁড়ানো কেবল যান্ত্রিক সংশোধন নয়, বরং বাজেটের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। কেন বাজার ঘুরে দাঁড়াল এবং কোন কোন সেক্টরে নজর রাখা জরুরি, চলুন দেখে নেওয়া যাক।
ব্লু-চিপ শেয়ারে ‘ভ্যালু বাইং’ (Value Buying)
বাজেট পেশের পর ভালো মানের শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে কমে যায়। এই সুযোগে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা সেই শেয়ারগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ হিসেবে কিনে নেন। সোমবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আদানি পোর্টস এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-এর মতো শেয়ারে ব্যাপক কেনাকাটা দেখা গেছে।
ফিসকাল কনসলিডেশন ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা
বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কোনো সস্তা জনমোহিনী পথে হাঁটেননি। সামনে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু-সহ ৫ রাজ্যে নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজকোষ ঘাটতি (Fiscal Deficit) গত বছরের ৪.৪% থেকে কমিয়ে ৪.৩%-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এই ‘ফিসকাল প্রুডেন্স’ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি আস্থা জোগাচ্ছে।
প্রযুক্তি ও এআই (AI) সেক্টরে জোর
২০২৬-২৭ বাজেটে এআই ডেটা সেন্টারে বিশেষ ‘ট্যাক্স হলিডে’ এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাইক্রোসফট, গুগল এবং আমাজনের মতো টেক জায়ান্টরা ভারতে বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটছে। এই পদক্ষেপ ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এফএন্ডও (F&O) ও এসটিটি (STT) বিতর্ক
ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ে এসটিটি (STT) বৃদ্ধির ফলে খুচরো বিনিয়োগকারীরা উচ্চ ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করছে সরকার। যদিও অর্থনীতিবিদ স্বামীনাথন আইয়ারের মতে, কেবল ট্যাক্স বাড়িয়ে জুয়া খেলার নেশা কমানো সম্ভব নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারকে স্থিতিশীল করবে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব ও তেলের দাম
সোমবার এশিয়ান বাজার বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সূচক পতনের মধ্যেও ভারতের শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটি বিশ্ববাজার থেকে ভারতের ‘ডিকাপলিং’ বা স্বকীয় শক্তির প্রমাণ। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.১৪% কমে যাওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।










