Gold Silver Price Crash: গত ৩০ এবং ৩১ জানুয়ারি—এই দুটি দিন ভারতীয় বুলিয়ন মার্কেটের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। কয়েক মাস ধরে চলা সোনার ‘বুলিশ ট্রেন্ড’ বা তেজি ভাব মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি সাধারণ পতন নয়, বরং ‘বাবল বার্স্ট’ বা সোনার বুদবুদ ফেটে যাওয়া। বৃহস্পতিবার যে রুপো ৪ লক্ষের গণ্ডি পার করে ইতিহাস গড়েছিল, শুক্রবার তাতেই ধস নামল প্রায় ১.২৮ লক্ষ টাকার! সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে গয়না ব্যবসায়ী—সকলের কপালেই এখন চিন্তার ভাঁজ।
রুপোর অবাধ পতন: আকাশ থেকে মাটিতে | Gold Silver Price Crash
বাজারের অস্থিরতা বা ভলাটিলিটি সোনার চেয়েও রুপোর ক্ষেত্রে ছিল ভয়াবহ। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রুপোর দাম সর্বকালীন উচ্চতা ৪,২০,০৪৮ টাকায় পৌঁছেছিল। কিন্তু শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় তা নেমে দাঁড়ায় ২,৯১,৯২২ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি কেজি রুপোর দাম তার সর্বোচ্চ স্তর থেকে ১,২৮,১২৬ টাকা কমে গিয়েছে। শতাংশের হিসেবে এই পতন প্রায় ২৬-২৭%, যা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
সোনার বাজারেও ধস: ২ লক্ষের স্বপ্নভঙ্গ | Gold Silver Price Crash:
রুপোর দেখাদেখি সোনাও তার ‘সেফ হ্যাভেন’ তকমা ধরে রাখতে পারেনি। ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম যেখানে ১,৯৩,০৯৬ টাকায় পৌঁছেছিল, শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় তা নেমে আসে ১,৫০,৮৪৯ টাকায়। অর্থাৎ, লাইফটাইম হাই থেকে সোনা সস্তা হয়েছে প্রায় ৪২,২৪৭ টাকা বা ১২%।
কেন এই মহাবিপর্যয়? (নেপথ্যের কারণ)
এই ঐতিহাসিক পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা:
- প্রফিট বুকিং: অতিরিক্ত দাম বাড়ার ফলে বাজার ‘ওভারবট’ (Overbought) পজিশনে চলে গিয়েছিল, ফলে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন।
- ফেড চেয়ারম্যান ও ডলার: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শ-এর নাম উঠে আসায় ডলার শক্তিশালী হয়েছে। তিনি সুদ হার বৃদ্ধির পক্ষপাতী, যা সোনার জন্য নেতিবাচক।
- ভূ-রাজনীতি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংক্রান্ত ইতিবাচক বার্তার ফলে যুদ্ধের উত্তেজনা কমেছে, তাই মানুষ নিরাপদ সোনা ছেড়ে শেয়ার বাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
মধ্যবিত্তের মাথায় হাত ও সতর্কতা
ভারতের জিডিপির থেকেও বেশি মূল্যের সোনা গচ্ছিত আছে ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে। তাই এই পতনে মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে বড় আঘাত লেগেছে। তবে যারা গয়না কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি সুযোগ হতে পারে।
কেনার আগে ৪টি বিষয় যাচাই করুন:
১. বিআইএস (BIS) হলমার্ক এবং ৬ অক্ষরের কোড যাচাই করুন।
২. আইবিজেএ (IBJA) রেটের সাথে দোকানের দাম মিলিয়ে নিন।
৩. রুপো কেনার সময় ‘ম্যাগনেট টেস্ট’ ও ‘আইস টেস্ট’ করে নিন।
৪. সাদা কাপড় দিয়ে ঘষে রুপোর বিশুদ্ধতা যাচাই করুন।
সোমবার বাজার খুললে ডলারের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না।










