Indian Smartphone Brand Launch: বিশ্ব প্রযুক্তির মানচিত্রে ভারত আর কেবল অন্যের কারখানাই নয়, এবার আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে নিজস্ব স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের দেশ হিসেবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) ২০২৬-এর মঞ্চ থেকে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই বিশ্ববাজারে আত্মপ্রকাশ করবে ভারতের নিজস্ব গ্লোবাল স্মার্টফোন ব্র্যান্ড।
স্মার্টফোন যাত্রায় নতুন মোড়
WEF ২০২৬-এর ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ভারতের ইলেকট্রনিক্স ইকোসিস্টেম এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এতদিন ভারত অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের মতো বিদেশি সংস্থাগুলোর জন্য কেবল অ্যাসেম্বলিং বা উৎপাদনের কাজ করত। কিন্তু এখন সময় এসেছে ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড বিল্ডিংয়ের। মন্ত্রীর কথায়, “এটাই সঠিক সময় ভারতের নিজস্ব মোবাইল ব্র্যান্ড বাজারে আনার।”
কেন ১২-১৮ মাসের সময়সীমা?
সরকারের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে শক্ত যুক্তি। গত কয়েক বছরে ভারতে স্মার্টফোন তৈরির সম্পূর্ণ ভ্যালু চেন বা ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে।
- হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার এখন সক্রিয়।
- পিএলআই (PLI) স্কিমের কারণে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমেছে।
- সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
ইলেকট্রনিক্স ইকোসিস্টেম ও প্রস্তুতি
দাভোসে মন্ত্রী স্মার্টফোন শিল্পের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ডিসপ্লে, ব্যাটারি, ক্যামেরা এবং সেন্সর নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি নিশ্চিত যে ভারত এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। শুধু উৎপাদন নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য স্মার্টফোন তৈরি করাই এখন মূল লক্ষ্য।
চিপ ও এআই (AI)-তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
শুধু স্মার্টফোন নয়, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও ভারতের পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। ২০২৬ সাল থেকেই দেশে চিপ উৎপাদনের প্রোডাকশন ফেজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া, Google DeepMind-এর সিইও ডেমিস হাসাবিস এবং OpenAI-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ক্রিস লেহেনের সঙ্গে বৈঠক করে ভারতের এআই নীতি ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
সাধারণ মানুষের কী লাভ?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের নিজস্ব ব্র্যান্ড বাজারে এলে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে:
- বিদেশি ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরতা কমবে, ফলে ফোনের দাম কমতে পারে।
- দেশীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচার ডিজাইন করা হবে।
- ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) শক্তিশালী হবে এবং লক্ষাধিক নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার হওয়া সত্ত্বেও ভারতের নিজস্ব কোনো গ্লোবাল ব্র্যান্ড ছিল না। অশ্বিনী বৈষ্ণবের এই ঘোষণা সেই অভাব পূরণের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আগামী দেড় বছর ভারতের প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। চীনের একাধিপত্য ভেঙে ভারত কি পারবে স্মার্টফোন দুনিয়ায় রাজত্ব করতে? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।











