২০২৬ সালের শুরুতেই ভিভো তাদের এক্স সিরিজের নতুন ফোন, Vivo X200T লঞ্চ করে সবাইকে চমকে দিয়েছে। X200 সিরিজের এটি চতুর্থ ফোন এবং সম্ভবত এই সিরিজের শেষ ফোন। ভিভোর দাবি অনুযায়ী, পারফরম্যান্স এবং ক্যামেরার দিক থেকে এটি একটি “সলিড” ডিভাইস। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী কী থাকছে এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটিতে।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে
ফোনটি হাতে নিলে বেশ হালকা মনে হলেও এর ওজন প্রায় ২০৩.৯ গ্রাম। এর মেটাল ফ্রেম এবং গোলাকার ব্যাক প্যানেল একে প্রিমিয়াম লুক দেয়। সামনে রয়েছে ৬.৬৭ ইঞ্চির ১.৫কে (1.5K) অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। ৫০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকায় রোদের আলোতেও ডিসপ্লে দেখতে কোনো সমস্যা হয় না। বেজেল বা বর্ডার নেই বললেই চলে, যা ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও ভালো করে তোলে।
বক্সের ভেতর যা থাকছে
বক্স খুললেই পাবেন একটি সিম ইজেক্টর টুল, ফোনটির কালারের সাথে মিল রেখে একটি কেস, ইউএসবি টাইপ-এ টু সি কেবল এবং ৯০ ওয়াটের একটি ফাস্ট চার্জার। এই ফোনটি ৪০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিংও সাপোর্ট করে।
পারফরম্যান্স ও গেমিং
Vivo X200T তে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী Dimensity 9400+ প্রসেসর। এর সাথে থাকছে LPDDR5X র্যাম এবং UFS 4.1 স্টোরেজ। আনটুটু (AnTuTu) বেঞ্চমার্কে এর স্কোর প্রায় ২৮-২৯ লাখের কাছাকাছি, যা সত্যি ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের। গেমিংয়ের কথা বললে, এতে COD Mobile বা BGMI-এর মতো গেম ১২০ এফপিএস (FPS)-এ অনায়াসে খেলা যায়। বেশিক্ষণ গেম খেললে মেটাল ফ্রেম কিছুটা গরম হলেও ফাইবারগ্লাস বডি তাপ খুব দ্রুত কমিয়ে ফেলে।

ক্যামেরা: ZEISS-এর জাদু
ভিভোর এক্স সিরিজ মানেই দুর্দান্ত ক্যামেরা, আর X200T-ও তার ব্যতিক্রম নয়। এতে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে:
- ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা (IMX921 সেন্সর)
- ৫০ মেগাপিক্সেল টেলিফোটো লেন্স (IMX882, 3x জুম)
- ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স (Samsung JN1)
সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। ZEISS-এর পার্টনারশিপ থাকায় ফটোতে কালার সায়েন্স এবং ডিটেইলস অসাধারণ আসে। বিশেষ করে পোর্ট্রেট মোড এবং লো-লাইট ফটোগ্রাফি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার জন্য একদম পারফেক্ট। ভিডিওর ক্ষেত্রে সব ক্যামেরা দিয়েই 4K 60FPS ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব।
ব্যাটারি ও সফটওয়্যার
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এর ব্যাটারি। ফোনটিতে রয়েছে ৬২০০mAh এর বিশাল ব্যাটারি, যা দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। সফটওয়্যার হিসেবে এতে থাকছে Origin OS 6, যা অত্যন্ত স্মুথ এবং ৫ বছরের মেজর আপডেট ও ৭ বছরের সিকিউরিটি আপডেটের গ্যারান্টিসহ আসে। এতে রয়েছে আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং আইপি ৬৮/৬৯ (IP68/69) ওয়াটার ও ডাস্ট রেসিস্ট্যান্স।
দাম এবং অফার
Vivo X200T-এর ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের দাম রাখা হয়েছে ৫৯,৯৯৯ টাকা। তবে কার্ড অফার এবং কুপন ডিসকাউন্ট মিলিয়ে এটি ৫৪,৯৯৯ টাকার আশেপাশে কেনা যাবে।
আপনি যদি এমন একটি ফোন খুঁজছেন যার ক্যামেরা দুর্দান্ত, ব্যাটারি ব্যাকআপ দীর্ঘস্থায়ী এবং পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি নেই, তবে Vivo X200T আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। এটি সত্যিই একটি অলরাউন্ডার স্মার্টফোন।











