Ajit Pawar Plane Crash: বুধবার সকালে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের বারামতি। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে (Ajit Pawar) বহনকারী একটি ব্যক্তিগত বিমান ল্যান্ডিংয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, অজিত পাওয়ার একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বারামতি যাচ্ছিলেন। গন্তব্যের খুব কাছেই ল্যান্ডিং বা অবতরণের সময় বিমানটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রানওয়ের পাশের একটি খেতে আছড়ে পড়ে। নিমেষের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা বিমানটি।

তবে এটি কি নিছকই যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আবহাওয়া বা মানবিক ভুল (Human Error)—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসন বা অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) এখনও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো বিবৃতি দেয়নি। দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের পোড়া ধ্বংসাবশেষ এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ভয়াবহতার প্রমাণ দিচ্ছে।
বিমানে কারা ছিলেন? অজিত পাওয়ার কি নিরাপদ?
দুর্ঘটনার পর থেকেই যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো—বিমানে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার কি সেই মুহূর্তে বিমানে উপস্থিত ছিলেন?
এনসিপি নেতা মাজিদ মেমন জানিয়েছেন, অজিত পাওয়ারের বারামতি পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে তিনি বিমানের ভেতরে ছিলেন কি না, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি। এই তথ্য না থাকায় এনসিপি কর্মী-সমর্থক এবং রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, দমকল বাহিনী এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আরোহীদের অবস্থা ও পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
ভিআইপি নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ
বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করছেন: ১. ল্যান্ডিংয়ের সময় প্রতিকূল আবহাওয়া। ২. রানওয়ে বা টেকনিক্যাল কোনো জটিলতা। ৩. বিমানের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি।
অতীতেও ভারতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হেলিকপ্টার বা বিমান দুর্ঘটনার একাধিক নজির রয়েছে। বারামতির এই ঘটনা ফের একবার ভিআইপিদের আকাশপথে যাতায়াতের নিরাপত্তা প্রোটোকলকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের দপ্তর থেকেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে খবর।
উৎকণ্ঠার প্রহর
বারামতির এই দুর্ঘটনা কেবল একটি বিমানের ধ্বংস হওয়া নয়, এটি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এক গুরুতর বিষয়। যতক্ষণ না সরকারিভাবে অজিত পাওয়ারের অবস্থান ও আরোহীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত বার্তা আসছে, ততক্ষণ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই উৎকণ্ঠা বজায় থাকবে।










